ছাতকে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক, আটক ২৪

হেলাল আহমদ ছাতক,সিলেট নিউজ বিডি: ছাতকে পাওনা টাকার লেনদেন নিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার রাতে উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও ও খিদ্রাকাপন গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত আকমল হোসেন (৩৫), আব্দুল মুকিত (৩৭), লোকমান হোসেন (৩৮), আকবর আলী, (৫৫), শিবলু দাস (১৯), সাগর মিয়া (৫০), এখলাছ মিয়া (২৫)সহ ২৪জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ১’শ ২০রাইন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ দু’পক্ষের ২৪ জনকে আটক করেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার পূর্বে জাউয়াবাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও গ্রামের আসিদ আলীর পূত্র জমির হোসেনের সাথে খিদ্রাকাপন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পূত্র সেলিম মিয়ার টাকার লেনদেন নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। সেলিম তার কিছু পাওনা টাকা জমিরের কাছে চাইতে গেলে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধওে সেলিম আহমদ ও জমির হোসেনের পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ খবর চারদিক ছড়িয়ে পড়লে দু’গ্রামবাসীর লোকজন দেশীয় লাটি-সোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-জাউয়াবাজার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দূর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। চারদিকে আতংকে ছড়িয়ে পড়লে জাউয়াবাজারের অধিকাংশ দোকান-পাঠ বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ এই সংঘর্ষের পূরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।
সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরন হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সংঘর্ষের পর রাস্তায় বেশ কয়েক রাউন্ড পাইপ গানের গুলির খোসা পাওয়া যায়। ছাতক থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে খবর দেয়া হয় দাঙ্গা পুলিশকে। রাত ৮টায় সুনামগঞ্জ থেকে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যাপক লাটিচার্জের পাশাপাশি ৯১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২৯ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কদর মিয়া, ইউপি সদস্য আব্দুল কদ্দুছ সুমন, পুলিশ পরিদর্শক মঞ্জুর মোর্শেদ, এসআই নূর মোহাম্মদ, এএসআই সাইফুল ইসলামসহ ৭জন পুলিশ আহত হন। এছাড়াও মাসুম আহমদ (২২), মাহমুদ আলী (১৯), আমিন আহমদ (২৩), মারুফ আহমদ (২৪), বিলাল হোসেন (৩৫), নুরুজ্জামান (২৪), অলিউর রহমান (১৮), ইসমাঈল হোসেন (২০), আফিজ আলী (৩৫), সমুজ আলী (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (১৯)সহ ৭০জনকে ছাতক উপজেলা সদর হাসপাতাল ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ছাতক-দোয়ারা অঞ্চলের (সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার দুলন মিয়া ও উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেনসহ এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিগনের উপস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটক ২৪জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।