ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে নদীর দখলকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ৪০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১২ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের খাসগাঁও ও সাতগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম সংলগ্ন সুনামপুর মৌজার অন্তরগত ভটেরখাল নদীর ভোগ-দখল নিয়ে সাতগাঁও গ্রামের মৃত তাজ উদ্দিনের পুত্র সাদ মিয়া ও খাসগাঁও গ্রামের মৃত মাফিজ আলীর পুত্র ইউপি সদস্য করম আলীর পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত ক’দিন ধরে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সংক্রান্ত এক নির্দেশে গত রোববার লিজের কাগজপত্র নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষ হাজির হয়। খাসগাঁও এলাকায় লিজ বহির্ভুত নদীর কিছু অংশ ভোগ-দখলের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তির নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। বিষয়টি নিস্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার কুমারকান্দি মাদরাসায় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠক চলাকালে উভয় গ্রামের লোকজন উত্তপ্ত বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষে নারীসহ উভয় গ্রামের অন্তত ৪০ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত সামছুল হক (৬৫), আতাবুল (২৮), বারিক মিয়া (৪৫), আশ্রব আলী (৫৫), রইছ আলী (৩৫), আশক আলী (৪৫), পারভেজ (৩০), আনোয়ার হোসেন (২০), আব্দুল আওয়াল (৫৪), সায়েস্তা মিয়া (৪০), আবুল মিয়া (৩৫) ও সুজন মিয়া (১৯) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পারভেজ (২৭), করম আলী (৫৫), আফরোজ আলী (৪০), নিলবানু (৩৮), আক্তার (১৮), জিল্লুর রহমান (৩৫), লিলু মিয়া (৪৬), তারেক আলী (২৪), কুতুব (৪৫), ইমরান হোসেন (৩০), সাজ্জাদ (৪৫), ফজর আলী (২৫), নিজাম উদ্দিন (৫০), নূর আহমদ (৩৫), রানী বেগম (৪৫), হেলাল (৩০), আব্দুল করিম (৬০), সিরাজ (৫০) সহ অন্য আহতদের স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সংঘর্ষ শেষে সাতগাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলাম রোগী নিয়ে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে খাসগাঁও এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাংচুরসহ তাদের আহত করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নির্মল চন্দ্র দেব জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper