ছাতকে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ছাতকে মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বারগোপী (বারিগাঁও) গ্রামের মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রুবেল আহমদ, নুরুল আমিন, ছমির উদ্দিন, নোবেল আহমদ, রুমেল আহমদ, সাইদুর রহমান, আবাছ আলী, সাকির আলী, এমদাদুর রহমান, সাজ্জাদ নুর, লুৎফুর রহমান, রুসনা বেগম, ছমিরুন নেছাসহ ২২জনকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০জনই গুলিবিদ্ধ বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির কারনে বারগোপী গ্রামে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, বারগোপী গ্রামের একটি মাঠে ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে দুটি পাড়ার লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার রাতে একপক্ষ মাঠে বাঁেশর তৈরী গোলবার খুলে নেয়ার পর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকার স্থানীয় মুরব্বীরা বিরোধ নিষ্পতির জন্য কয়েক দফা বৈঠক করে ব্যর্থ হন। ওই ঘটনায় শনিবার সকালে গ্রামের উত্তরের মাঠে বারগোপি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ইলিয়াছ আলী, লুৎফুর রহমান পক্ষের লোকজনের সাথে একই গ্রামের পূর্বপাড়ার জমির আলী, লিটন মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এক পর্যায়ে লাটি-সোটা নিয়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও গুলাগুলি। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েক রাউন্ড শর্টগান ও বন্দুকের গুলিতে পূরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ২২জনকে সিলেট ও অন্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ স্থানীয় মুরব্বীদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। বারগোপী গ্রামের আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সংঘর্ষে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও ব্যবহারকারিদের গ্রেফতাদের দাবিতে দোলারবাজার এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসি। আফরোজ আলীর সভাপতিত্বে ও জিয়াউল রহমানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, আশিক মিয়া, আলী আকবর, আবুল হোসেন, আব্দুল জলিল মেম্বার, নেছার আহমদ, তুফায়েল আহমদ, আব্দুল মমিন, আবুল খয়ের ও গৌছ মিয়া প্রমুখ। বক্তারা, প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও গুলাগুলি করে এলাকায় আতংক সৃষ্টিকারি লিটনসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার দাবি জানান।