দিরাইয়ে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

দিরাইয়ে নামধারী আওয়ামীলীগ নেতা জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারী রাস্তার শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান কেউ প্রতিবাদ জানালে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত ঘটনাটি উপজেলার জগদল ইউনিয়নের দৌলতপুর-কামরীবিজ সরকারী রাস্তায়। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে জগদল ইউনিয়নের তহশীলদার আবু বক্কর খান সরেজমিন গিয়ে ১৩৫ টি গাছ কাটা অবস্থায় জব্দ করেন।

এলাকাবাসী জানান কামরীবিজ গ্রামের সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা ময়না মড়লের ছেলে জিল্লুর রহমান আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এলাকায় সরকারী দলের নেতাদের সাথে কাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দলের কোন পদ পদবী না থাকলেও আওয়ামীলীগ নামধারী দাপটের নেতা হয়ে যান। তার বিরুদ্ধে কামরীবিজের এক সময়ের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা কর্মীদের কে বিভিন্নভাবে মামলা মোকাদ্দমার হয়রানীর ও অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। সম্প্রতি সরকারী রাস্তার শতাধিক গাছ কাটার বিষয়ে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে তাদেরকে মামলার হুমকি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বৃহস্পতিবার জগদল ইউনিয়নের তহশীলদার আবু বক্কর খান সরেজমিন গিয়ে ১৩৫ টি গাছ কাটা অবস্থায় তালিকাভুক্ত করে জব্দ করেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোঃ আলতাফ হোসেন ।

তিনি আরও বলেন তহশীলদারের রিপোর্ট পাওয়ার পর শীঘ্রই পুলিশি এ্যাকশনে যাওয়া হবে। তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জিল্লুর রহমানের লোকজন গাছ কেটে নিচ্ছেন। এসময় জানতে চাইলে গাছ কাটার শ্রমিক কামরীবিজ গ্রামের মৃত নঈম উল্লার ছেলে আমির হোসেন বলেন, জিল্লুর ও তার পিতা ময়না মড়লের নির্দেশে তিনি গাছ কাটছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগদল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ বলেন, আমি শুনেছি কামরীবিজ গ্রামের জিল্লুর ও তার লোকজন সরকারী রাস্তার শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দুই মেয়াদের সাধারন সম্পাদক ইফতিয়াক হোসেন মন্জু বলেন,কামরীবীজের জিল্লুর রহমান আওয়ামীলীগের উপজেলা কমিটির কোন নেতা নয়,আমার ইউনিয়ন কমিটিরও পদ পদবীধারী কোন নেতা না ।তাহলে কিসের আওয়ামীলীগ নেতা সে।

তবে জিল্লুর রহমান গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি দেশের বাহিরে ছিলাম, ঈদের আগের দিন দেশে এসেছি। সরকারী রাস্তার গাছ কাটার বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।